১২:৩২ অপরাহ্ণ
আইরীন নিয়াজী মান্না
রামিসার জন্য ন্যায়বিচার হোক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার
একটি শিশুর মুখে হাসি থাকার কথা। থাকার কথা স্কুলব্যাগ, রঙপেন্সিল, বিকেলের খেলাধুলা আর নিশ্চিন্ত ঘুম। অথচ সেই শিশুর নাম আজ উচ্চারিত হচ্ছে কান্নায়, ক্ষোভে ও শোকের ভারে। ছোট্ট রামিসা আজ আর নেই। তার নিথর শরীর শুধু একটি পরিবারের স্বপ্নকেই ভেঙে দেয়নি, নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো দেশকে।
রামিসার বাড়িতে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি তাই নিছক একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ছিল শোকাহত পরিবারের পাশে রাষ্ট্রের দাঁড়িয়ে থাকার প্রতীক। তিনি দ্রুত বিচার এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন। এই আশ্বাসে মানুষ স্বস্তি খুঁজতে চায়, ভরসা রাখতে চায়। কিন্তু দেশের মানুষ এখন শুধু আশ্বাস শুনতে চায় না, তারা বিচার দেখতে চায়—দ্রুত, স্বচ্ছ এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার।
কারণ আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যখন শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার খবর বারবার জাতিকে লজ্জিত করছে। প্রতিবারই ক্ষোভ ওঠে, মানববন্ধন হয়, সামাজিক মাধ্যমে ঝড় ওঠে; তারপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ঘটনা হারিয়ে যায় দীর্ঘসূত্রতা আর বিচারহীনতার অন্ধকারে। কিন্তু রামিসার ঘটনা যেন সেই তালিকায় আরেকটি সংখ্যা হয়ে না যায়।
রাষ্ট্রের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো প্রমাণ করা—এই দেশে একটি শিশুর জীবন সস্তা নয়। অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। বিচার শুধু আদালতের রায় নয়, বিচার হলো মানুষের ভরসা ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া। বিচার হলো ভবিষ্যতের অপরাধীদের জন্য কঠিন সতর্কবার্তা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি যখন রামিসার বাড়িতে গিয়ে তার পরিবারের চোখের জল দেখেছেন, তখন সেই কান্নার সঙ্গে মিশে ছিল পুরো দেশের আকুতি। মানুষ এখন আপনার দিকে তাকিয়ে আছে। তারা দেখতে চায়, আপনার নির্দেশে এই মামলার বিচার সত্যিই দ্রুত এগিয়ে যায় কি না। তারা দেখতে চায়, রাষ্ট্র সত্যিই একটি শিশুর জন্য শেষ পর্যন্ত লড়তে পারে কি না।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করার এটাই সময়। এমন বিচার নিশ্চিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী আর একটি শিশুর দিকে হিংস্র চোখে তাকানোর সাহস না পায়। এমন বিচার হোক, যা কেবল রামিসার পরিবারের জন্য নয়, দেশের প্রতিটি মা-বাবার মনে নিরাপত্তার অনুভূতি ফিরিয়ে আনে।
রামিসা আর ফিরবে না। কিন্তু তার জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে অন্তত এই রাষ্ট্র বলতে পারবে—আমরা একটি শিশুর কান্নাকে অবহেলা করিনি।