সারা বুশরা দ্যুতি
২৪ জুন ২০ ২৬
৮:৩৩ অপরাহ্ণ

গুলতেকিনকে নিয়ে এতো মিথ্যাচার!

যারা গুলতেকিন খানকে নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে বাজে কথা বলছেন, আর নিজেদের প্রিয় লেখক আর তার দ্বিতীয় স্ত্রীর গুণগান করছেন, তাদের যুক্তি দেখে করুণা ছাড়া আর কিছুই আসছে না। তাদের বক্তব্য গুলতেকিন খান নাকি এখন ভাইরাল হওয়ার জন্য উল্টোপাল্টা বলছেন। কত অন্ধ হলে তারা বলতে পারেন গুলতেকিন পাকিস্তানপন্থী, মেয়ের জামাইয়ের ক্ষমতার সুযোগ নিয়ে এখন ফেইসবুকে হুমায়ূন আহমেদের নামে মিথ্যাচার করে বেড়াচ্ছেন!!

সিরিয়াসলি?

উনার অ্যাডাল্ট মেয়ে নিজে প্রেম করে বিয়ে করেছে। ওই বিয়ে উনি দেননি। গুলতেকিন খান বেশ কয়েক বছর ধরে লেখালেখি করেন। সবসময় বলেছেন আমার নিজের ছেলে নূহাশ ছাড়াও আমার আরও দুই ছেলে আছে। নোভার স্বামী আরশাদ আর বিপাশার স্বামী তূর্য। মেজ মেয়ের হাজব্যান্ডের নাম উনি কোথাও উচ্চারণ করেননি। ঈদ বা অন্যান্য পারিবারিক ইভেন্টে উনার বাসায় বাকি দুই মেয়ের জামাইকে দেখা গেলেও শীলা আহমেদের হাজব্যান্ডকে আজ পর্যন্ত শ্বশুর বাড়ির কোনো প্রোগ্রামে উপস্থিত দেখা যায়নি। অন্য দুই মেয়ের স্বামীর সাথে গুলতেকিন খানের পারিবারিক মুহূর্তের বহু ছবি আছে,অথচ শীলা আহমেদের স্বামীর কোনো ছবি নেই। গুলতেকিন কখনো মেজ মেয়ে জামাই নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। সবসময় এড়িয়ে গেছেন। এর থেকে আন্দাজ করা যায় তাদের মধ্যে খুব একটা মধুর সম্পর্ক নেই।

যেই ভদ্রমহিলার সারাজীবন স্ট্রাগল করে কেটেছে, তিনি যদি একটা বয়সে এসে নিজের কষ্টের কথাগুলো বলে হালকা হতে চান, তিনি তা অবশ্যই করতে পারেন। সবসময় পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে না। মন-মানসিকতা বা ইচ্ছেও একটা বড় ফ্যাক্টর। হয়তো এতোবছর পর উনি মানসিকভাবে সেটেল হয়েছেন, রিল্যাক্সড ফিল করছেন। তাই অতীতের কথাগুলো একের পর এক ধারাবাহিকভাবে বেরিয়ে আসছে। যাদের শুনতে বা জানতে আপত্তি আছে তারা পড়বে না। তারা চোখ কান বন্ধ রাখবে। উনার স্মৃতিকথা পড়া তো ফরজ না যে না করলে ইমান নষ্ট হবে।

পড়বো, তারপর ট্রল করবো, যে লিখছে তার কলম রুখে দিব, তাঁকে তার পোস্ট সরাতে বাধ্য করবো, এতো টক্সিক কেন হতে হবে?

আমার মনে আছে ২০১৭ সালে বইমেলায় গুলতেকিন খানের কবিতার বই বের হওয়ার পর উনি টিভিতে একটা ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন।সেখানে উনি বলেছিলেন স্বামী জোর করে উনাকে আমেরিকা যেতে বাধ্য করেছিলেন, উনাকে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিতে দেননি। ওই ইন্টারভিউটা দেখে আমার খুব মন খারাপ হয়েছিল। কারণ হোটেল গ্রেভার ইনে হুমায়ূন আহমেদ একদম বিপরীত কথা লিখেছিলেন।গুলতেকিন নাকি স্বামীর ভালোবাসায় আর বিরহে কাতর হয়ে পরীক্ষা বাদ দিয়ে সব ছেড়ে দিয়ে নিজের উদ্যোগে আমেরিকা চলে গেছিলেন! দুজনের বক্তব্য ক্ল্যাশ করাতে স্বাভাবিকভাবেই আমার গুলতেকিন খানের প্রতি সামান্য অভিমান হয়েছিল। মনে হয়েছিল কী দরকার এত বছর পরে এসব বলার?

এই কয় বছরে আমি পরিণত হয়েছি। এখন আমি বুঝতে পারি আমার রাগটা হয়েছিল আসলে নিজের উপর। আমি যে লেখকের লেখাকে এত বছর সরল মনে বিশ্বাস করেছি সেই বোকামির উপর। আমার সাব কনশাস মাইন্ড বুঝে গেছিল গুলতেকিন সত্যি বলছেন। বাস্তবতা আর যুক্তি দিয়ে চিন্তা করলে যে কেউ টের পাবে কোনটা সত্যি। আমি পাঠক হিসেবে যা পড়েছি তাই বিশ্বাস করে প্রতারিত হয়েছি সেটাই ছিল আমার অভিযোগ। অভিযোগ গুলতেকিন খানের উপর ছিলো না।

কিছুদিন ধরে গুলতেকিন খানের যত লেখা পড়েছি, প্রতিবার উনার উপরই বিশ্বাস ঘনীভূত হয়েছে। আর শুধু গুলতেকিন নন, হুমায়ূন আহমেদের বাকি ভাইবোনেরাও বিভিন্ন সময় বলেছেন তাদের দাদাভাইয়ের লেখা আকর্ষণীয় করার জন্য মিথ্যে কথা লেখার অভ্যেস ছিল। পুরো পরিবারকে নিয়েই নিজের আত্মজীবনীমূলক বইগুলোতে উনি বানিয়ে বানিয়ে অনেক কিছু লিখেছেন।

এরপরেও যারা লেখককে অন্ধ বিশ্বাস করতে চায়, তাঁর কথাকে বেদবাক্য মনে করে, তাদের বলবো জোছনা আর জননীর গল্পের ভূমিকার শেষের প্যারাটাতে একটু চোখ দিতে। লেখক লিখেছেন- “কুড়ি বছর আগে আমার জন্মদিনে গুলতেকিন আমাকে একটা মোটা খাতা উপহার দিয়েছিল। স্পাইরেল বাইন্ডিং করা নীল মলাটের পাঁচশ পৃষ্ঠার খাতা। তার অনুরোধ ছিল আমি যেন রোজ এক পৃষ্ঠা হলেও সেখানে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বড় একটা উপন্যাস লিখি। সারাজীবন গুলতেকিনকে নানা দুঃখ কষ্ট দিয়েছি। আজ মনে হয় সে খুশি হবে।”
(আমার কাছে বইটি নেই। তাই হুবহু লেখাটা কপি করতে পারলাম না। স্মৃতি থেকে লিখছি। দুই একটা শব্দ এদিক-ওদিক হতে পারে।তবে মূল বক্তব্য এটাই ছিল)

যারা মনে করেন হুমায়ূন আহমেদ ফেরেশতা, সদা সত্য কথা বলতেন, তাদের তাহলে এটাও বিশ্বাস করা উচিত। লেখক নিজেই স্বীকার করছেন তিনি তার স্ত্রীর সাথে যথাযথ ব্যবহার করেননি। তিনি এও বলছেন তাঁর স্ত্রীর আবেদন ছিল মুক্তিযুদ্ধের গল্প লেখার।
যেই মানুষ নিজে হাজব্যান্ডকে খাতা কিনে দিয়ে রোজ একটু একটু করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখার অনুরোধ জানায়, সে পাকিস্তানপন্থী কী করে হয়?
মিললো কি আপনাদের অভিযোগ?

ফেইসবুক কমেন্ট অপশন
এই বিভাগের আরো খবর
পুরাতন খবর খুঁজতে নিচে ক্লিক করুন


আমাদের ফেসবুক পেইজ